বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৫:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কোটা বাতিলের নামে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তোষ কুমার অধিকারীর কিছু কথা – মুক্তিযুদ্ধের চেতনা টিভি নওগাঁয় বিস্কুট খেয়ে দুই শিশু কন্যার মৃত্যু- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা টিভি জাফলংয়ে কথা কাটাকাটি থেকে মারামারি অতঃপর ঘুষিতে প্রাণ গেল শ্রমিকের – মুক্তিযুদ্ধের চেতনা টিভি নওগাঁয় কোটা বিরোধী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঠে নামতেই দেয়নি ছাত্রলীগ- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা টিভি কোটা বাতিল আন্দোলনের যৌক্তিকতা নেই: প্রধানমন্ত্রী – মুক্তিযুদ্ধের চেতনা টিভি বীর মুক্তিযোদ্ধার পৈত্রিক সম্পত্তি সরকারিভাবে একোয়ারের নোটিশ, দিশেহারা অসুস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার – মুক্তিযুদ্ধের চেতনা টিভি রাজশাহীতে মুক্তিযোদ্ধা ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত – মুক্তিযুদ্ধের চেতনা টিভি চলে গেলেন না ফেরার দেশে বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার রাজশাহীর কৃতি সন্তান খালেদ মাসুদ পাইলটের’ মা নার্গিস আরা বেগম- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা টিভি’ বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটি অনুমোদন – মুক্তিযুদ্ধের চেতনা টিভি বাবুগঞ্জে এস এস সি কৃতকার্য ছাত্রী ধর্ষিতা অবশেষে পুত্র সন্তানের মা হলেন – মুক্তিযুদ্ধের চেতনা টিভি

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বীরত্বগাঁথার গল্প (৩য় পর্ব) – মুক্তিযুদ্ধের চেতনা টিভি

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৫ মার্চ, ২০২৪
  • ৩০ বার পড়া হয়েছে

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বীরত্বগাঁথার গল্প ( তৃতীয় পর্ব)

৩০ মার্চ ১৯৭১ নড়াইল থেকে যশোর রোড মার্চে ছাত্র জনতার ঢল। উদ্দেশ্য যশোর ক্যান্টনমেন্ট অবরোধ।

(বীর মুক্তিযোদ্ধার নিজের বর্ণনা)

৩০ মার্চ সকাল ১০ টার দিকে জানতে পারলাম নড়াইল থেকে ছাত্র জনতাসহ মুক্তিকামী মানুষ, নড়াইলের তৎকালীন এস,ডি,ও ডঃ কামাল সিদ্দিকী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের নেতৃত্বে নড়াইল থানার অস্ত্রভান্ডার লুট করা অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হাজার হাজার ছাত্রজনতা পদব্রজে বীর দর্পে যশোর ক্যান্টনমেন্ট অবরোধ করতে এগিয়ে আসছে।
এ খবর শোনা মাত্রই আমি, প্রতিবেশী চিত্তরঞ্জন রায়, মোঃ শামছুর মাস্টার, বড় ভাই মোহাম্মদ আলী ও কালুপাড়ার মোঃ মজনু হাতে লাঠি, রামদা, হাসুয়া দা ও তীর ধনুক নিয়ে বাঘারপাড়ার দোহাকুলা বাজার থেকে চাড়াভিটা অভিমুখে রওনা দিলাম। বেলা অনুমানিক ১২ টায় চাড়াভিটাতে আগত ছাত্র জনতার মিছিলে যুক্ত হলাম।

কি এক অভাবনীয় উত্তেজনা আমাদের মধ্যে কাজ করছে তা এখন বলে বুঝাতে পারবো না। মহাসড়কে শুধু মানুষ আর মানুষ। শুরু হলো আমাদের যশোর অভিমুখে বীর দর্পে পদযাত্রা। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগানে চারদিক মুখরিত। আমাদের পদযাত্রা চলছে রাস্তার পাশে আয়াপুর, দেবীনগর, ছাতিয়ানতলা, দোরাস্তা, বুধপুর, ভায়না, তারাগজ্ঞ, পুকুর ভিটা, পথেপুরসহ রাস্তার পাশের সকল বৃদ্ধবণিতা রাস্তার উভয় পাশে দন্ডায়মান থেকে এ পদব্রজে অংশগ্রহণ করা পরিশ্রান্ত মানুষের সেবা ও খাওয়া সরবরাহ করতে ভ্যানে করে হাতে বানানো রুটি ও গুড়, খিচুড়ি, বিভিন্ন ফলসহ ভ্যানভর্তি ডাব বিতরণ করছে। রাস্তার দু’পাশে দন্ডায়মান শত শত নারী পুরুষ আমাদের হাতে বিভিন্ন খাবার তুলে দিয়ে আমাদেরকে উৎসাহিত করছে। সেদিনের সে অনুভূতি আজও আমাকে তাড়া করে এবং চোখে জল আসে। মুক্তিকামী মানুষ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যে এক হয়ে এক মঞ্চে এসে দাঁড়িয়েছে সহজে অনুমেয়। রাস্তার দু’পাশের নারী পুরুষ নিজেকে উজাড় করে হাজার হাজার জনতার সেবা করতে কোন কার্পণ্য পরিলক্ষিত হয়নি সেদিন।

আমাদের পদযাত্রা দায়তলা ব্রীজ পার হতে বেলা চলে গেল। তখন আমাদের রাতের অবস্থান হোল দায়তলার আশেপাশে বাড়ীতে। অনেক হিন্দুদের বাড়িঘর জনশূন্য দেখা গেল। বুঝতে পারলাম তারা ইতোমধ্যে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। আমাদের পদব্রজের সন্মুখে ছিল আগ্নেয়াস্ত্রধারী এবং বড় রামদা হাতে খালি গায়ে থাকা নমঃ শূদ্র শ্রেণীর সবল পুরুষ। রাতে কোথা থেকে রান্না করা খাবার এলো বুঝা গেল না।
রাতে বিভিন্ন মানুষের ঘরের বারান্দায় আমাদের ঠাঁই হলো।
পরেরদিন সকালে আবার আমাদের রোডমার্চ শুরু হলো যশোর অভিমুখে। আমাদের অগ্রগামী দল বাউলিয়া ও হামিদ পুর পার হয়ে ঝুম ঝুম পুর বিহারী ক্যাম্প পার হতে প্রতিরোধের মুখে পড়ে। বিহারী ক্যাম্পের মধ্য থেকে বোমা ককটেল বিস্ফোরণ করা হলো।

আমাদের অগ্রগামী দল তা প্রতিরোধে বিহারী ক্যাম্প আক্রমণ করলো। অনেক লোকজন হতাহত হোলো। বিহারী ক্যাম্পের সন্ত্রাসীদের হত্যা করা হলো। নাম করা সন্ত্রাসী ও গুন্ডা ট্যানা গুন্ডাকে পলায়নরত অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হলো জনসম্মুখে।

প্রায় এক ঘন্টা ধরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলতে লাগল। ক্যাম্পে নারীরা জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে আত্মসমর্পণ করল এবং তাদের কে ট্রাকে করে নড়াইল অভিমুখে সরিয়ে দেয়া হলো। আমাদের পদযাত্রা ঝুমঝুমপুর ও নীলগঞ্জ পার হয়ে সিটি কলেজ পার হয়ে যশোর শহর অতিক্রম করে সানতলা পৌঁছে গেল এবং যশোর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার চারদিকে আমাদের অবস্থান হোল। এভাবে ৩ দিন আমরা যশোর সেনানিবাস অবরোধ করে রাখি। সেনাবাহিনী ২৫ শে মার্চের কালো রাতে গণহত্যা চালিয়ে সেনানিবাসে অবস্থান নিয়েছে। ৩ দিন অবরোধ করে রাখার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী অতর্কিত ভারী গোলা বর্ষণ শুরু করলে আমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলাম। আমরা পিছু হটে আসতে বাধ্য হলাম। আমরা ৫ জন একত্রে বাঘারপাড়ায় ফিরে এলাম। ইতোমধ্যে পাক আর্মির দল বিভিন্ন জনপদে ঢুকে নির্বিচারে আগুন সন্ত্রাস ও গুলি করে গণহত্যায় লিপ্ত হলো। যশোর শহর উপশহরের উপর আক্রমণ নির্যাতন চলতে থাকলো। শত শত নারী পুরুষের লাশ যেখানে সেখানে পড়ে থাকতে দেখেছি সেদিন কিন্তু আমাদের উপর চালিয়ে যাওয়া নির্বিচারে হত্যাকান্ড গণহত্যা হিসেবে আজও জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত হয়নি।

( ___চলমান থাকবে___ )

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আজকের নামাজের সময়সুচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৫৭ পূর্বাহ্ণ
  • ১২:০৮ অপরাহ্ণ
  • ১৬:৪৩ অপরাহ্ণ
  • ১৮:৫৩ অপরাহ্ণ
  • ২০:১৭ অপরাহ্ণ
  • ৫:১৯ পূর্বাহ্ণ
©2020 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102