বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৬:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কোটা বাতিলের নামে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তোষ কুমার অধিকারীর কিছু কথা – মুক্তিযুদ্ধের চেতনা টিভি নওগাঁয় বিস্কুট খেয়ে দুই শিশু কন্যার মৃত্যু- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা টিভি জাফলংয়ে কথা কাটাকাটি থেকে মারামারি অতঃপর ঘুষিতে প্রাণ গেল শ্রমিকের – মুক্তিযুদ্ধের চেতনা টিভি নওগাঁয় কোটা বিরোধী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঠে নামতেই দেয়নি ছাত্রলীগ- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা টিভি কোটা বাতিল আন্দোলনের যৌক্তিকতা নেই: প্রধানমন্ত্রী – মুক্তিযুদ্ধের চেতনা টিভি বীর মুক্তিযোদ্ধার পৈত্রিক সম্পত্তি সরকারিভাবে একোয়ারের নোটিশ, দিশেহারা অসুস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার – মুক্তিযুদ্ধের চেতনা টিভি রাজশাহীতে মুক্তিযোদ্ধা ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত – মুক্তিযুদ্ধের চেতনা টিভি চলে গেলেন না ফেরার দেশে বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার রাজশাহীর কৃতি সন্তান খালেদ মাসুদ পাইলটের’ মা নার্গিস আরা বেগম- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা টিভি’ বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটি অনুমোদন – মুক্তিযুদ্ধের চেতনা টিভি বাবুগঞ্জে এস এস সি কৃতকার্য ছাত্রী ধর্ষিতা অবশেষে পুত্র সন্তানের মা হলেন – মুক্তিযুদ্ধের চেতনা টিভি

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বীরত্বগাঁথার গল্প (ষষ্ঠ পর্ব)-মুক্তিযুদ্ধের চেতনা টিভি

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৪ মার্চ, ২০২৪
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বীরত্বগাঁথার গল্প ( ষষ্ঠ পর্ব )

বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্তৃক বর্ণিত___

দত্তফুলিয়া অপারেশন ক্যাম্পে অবস্থানকালে প্রথম ৩/৪ দিন শিখ সেনাদের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা ক্যাম্পের ভিতরে বড় বড় ট্রেন্স খনন করলাম আমাদের ক্যাম্পের আর্মস এন্ড এমুনেসন্স মাটির তলে রাখার জন্য। এটা যুদ্ধক্ষেত্রের কৌশল। ক্যাম্প আক্রান্ত হলেও যাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও সমর সরঞ্জাম অক্ষত থাকে।

৪/৫ দিন কাটানোর পর আমাদেরকে ৪/৫ জন ৮/১০ জনের দলে বিভক্ত করে পাক হানাদার বাহিনীর কবলিত আমাদের মাতৃভূমি রক্ষার্থে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রেরণ করা শুরু হয়। প্রত্যেককে ৩ টা করে হ্যান্ড গ্রেনেড ও দলনেতাকে একটা এস এম জি দিয়ে ১০ দিনের জন্য পাকিস্তানি ১০০ টাকা প্রত্যেককে প্রদান করা হয়। আমরা দুপুরে খেয়ে সীমান্তের দিকে চলা শুরু করলাম। একেবারে খাঁটি গেরিলা। গায়ে ঝোলা নীচে ২ টা পকেট ওয়ালা জামা ও লুঙ্গি পরিধান করে আমাদের যাত্রা শুরু হয় জুনের ২৩/২৪ তারিখ হবে। আমার দলনেতা ছিলেন যশোর শহরের আলীম ভাই । তিনি গ্রাজুয়েট ছিলেন। আমরা বাগদা হয়ে বয়রা সীমান্তে এসে নৌকায় নদী পার হয়ে আমাদের চৌগাছার হাবিবপুর কাবিলপুর হয়ে গরীব পুর পার হলাম। আমার ঢোলা জামার তলে মাজায় গামছা বাঁধা ৩ টা হ্যান্ড গ্রেনেড ছিল। আলীম ভাইয়ের জামার তলে এস এম জি ঝুলানো ছিলো। আলীম ভাই ও আমি দুজনে চৌগাছার সিঙ্গরালি বাজার পার হয়ে পায়ে হেঁটে সাত মাইলের পাশে আলীম ভাইয়ের পরিচিত কলেজ জীবনের এক বন্ধুর বাড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করলাম। যশোর শহর থেকে আশ্রয় নেয়া এক পরিবার।
রাতে খাবার খেয়ে দুজনে এক ঘরে ঘুমিয়ে পড়লাম। পরের দিন দুপুরের পরে আবার যাত্রা শুরু করলাম। আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম প্রথম বার আমরা যার যার বাড়ি ও গ্রাম এলাকায় অবস্থান নেব।

যে কথা সে কাজ। আমি আমার পুণ্য জন্মভূমি বাঘারপাড়া এর উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। জুন মাসের ২৪/২৫ তারিখ হবে আমি যশোর সদরের সাত মাইল থেকে সোজা পথে খাজুরা বাজারে গিয়ে বাঘারপাড়ার পথে চলতে থাকি। তখনো রাজাকার জায়গায় জায়গায় ক্যাম্প করেনি। তবু মেঠো পথে আমি একা সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি নীরবে এ গান গাইতে গাইতে খাজুরা ভদ্রডাঙ্গা হয়ে আজিমপুর আমার এক আত্মীয় জগেন্দ্র নাথ শর্মার বাসায় উঠলাম।

জগেন্দ্র কে আমি দাদাবাবু বলে ডাকতাম। আমি মুক্তিযোদ্ধা জেনে দাদাবাবু আমাকে সাবধানে ঘরের ভিতর আশ্রয় দিলেন। কোথাও বের হতে দিলেন না। সকালে ঘরের ভিতর থেকে খাবার খেলাম। দুপুরে খেয়ে বিকেলে বাঘারপাড়ার বাড়ির দিকে চলা শুরু করলাম। মেঠো পথ দিয়ে হেঁটে এক দেড় ঘন্টার মধ্যে বাঘারপাড়ার বাঘারপাড়া গ্রামে আমার সহপাঠী বন্ধু মোহনলাল শর্মার বাড়িতে গেলাম। সেখানে মোহনলাল এর বাবাকে বাড়িতে পেলাম। তিনার কাছ থেকে বাঘারপাড়া থানা ওসি ও অফিসের খোঁজ খবর নিলাম। জানতে পারলাম তখন পর্যন্ত বাঘারপাড়া থানা সদরে রাজাকার ক্যাম্প প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তবে পাক আর্মির টহল মাঝে মাঝে পরিলক্ষিত হতো।

সন্ধ্যার পর আমি মোহনলাল এর বাড়ি ছেড়ে দোহাকুলা গ্রামে নিজের বাড়িতে যাওয়ার পথে বাঘারপাড়ার হাট পার হলাম। ঐদিন হাটবার থাকাতে আমার হেঁটে চলাতে সুবিধা হয়েছিল। হাঁটে আগতদের ভীড়ে আমি হাট পার হয়ে দোহাকুলা হিন্দু পাড়ায় আমাদের বাড়িতে পৌঁছে গেলাম। আমাদের ঘরে তখন আমার সেজো বোনসহ আমার অমূল্য দাদাবাবু ও আমার ভাগ্নে ভাগিনাদের সাথে দেখা করে আনন্দে বুকটা ভরে গেল। রাতে আমার সেজো দিদির হাতের রান্না খেয়ে আমার পাশের বাড়ি ভোলা দাদার বাড়িতে নিরাপত্তার জন্য আশ্রয় গ্রহণ করলাম। ঘরের বাইরে যেতাম না। আশে পাশে পাকিস্তান পন্থী লোকজন আমার আগমন টের পেলে নির্ঘাত মৃত্যুকে ডেকে আনার সামিল ঘটনা ঘটত। আমাদের গ্রামের হিন্দুরা তখনো দেশ ত্যাগ করেনি।
আমি এভাবে ঘরের মধ্যে ৫ দিন অতিবাহিত করলাম। প্রাণবল্লভ দাদা আমার সাথে দেখা করল আমাদের গ্রামে আশ্রয় নেয়া ডাঃ রুস্তম কে নিয়ে। তিনি আওয়ামী লীগের নেতা ছিলেন এবং তিনি যশোরের রুপদিয়া বাজার ত্যাগ করে পরিবারসহ আয়ূব ডাক্তারের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি আমার কথা শুনে আমার সাথে দেখা করলেন।

বাঘারপাড়া হেড কোয়ার্টারে কোন রাজাকার বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপিত হবে শীঘ্রই সে গুঞ্জন শোনা গেল। আমার কাছে থাকা ৩ টা গ্রেনেড কোথাও চার্জ করার মত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।
তখন রুস্তম ডাক্তার ও প্রাণবল্লভ ডাক্তার আমার নিকট থেকে গ্রেনেড নিক্ষেপ করার ট্রেনিং গ্রহণ করল। আমার বাল্য বন্ধু ও সহপাঠী আঃ মান্নান আমার আগমন টের পেয়ে রাতে আমার সাথে দেখা করল। আমি তাকে ও গ্রেনেড নিক্ষেপ করার প্রশিক্ষণ দিলাম। কোথাও গ্রেনেড চার্জের প্রয়োজন না হওয়ায় আমি ডাঃ রুস্তম ও প্রাণবল্লভ ডাক্তারের জিম্মায় ২ টা ও আমার বন্ধু মান্নানকে ১ টা গ্রেনেড দিয়ে আমি আবার মুক্তিযোদ্ধা অপারেশন ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে রাতে রওনা দিবো এমন সময়ে আমার পার্শ্ববর্তী মহিরণ গ্রামের আমার মামা মোঃ সোলায়মান হোসেন বিশ্বাস আমার বাড়ীতে আসে এবং যাওয়ার সময় তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়।

গেরিলা ট্রেনিং এর প্রথম অপারেশনে নিজের এলাকায় এসে গেরিলা কায়দায় শত্রুর অবস্থানে গ্রেনেড বিস্ফোরণ করার প্রয়োজন না হলেও আমি ৪ জনকে গ্রেনেড বিস্ফোরণ করার প্রশিক্ষণ প্রদান করে গেলাম। আমার প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে ২জন সোলায়মান বিশ্বাস ও আঃ মান্নান পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে যোগদান করে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছিল। আমি প্রথম অপারেশনে নিজের গ্রামে না আসলে ২ জন কে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জাতি পেত না।
আমি রাত অনুমান ১২ টার দিকে নিজের সেজদিদি ভাগ্নে ভাগিনাদেরকে রেখে চোখের জল মুছতে মুছতে সোলায়মান মামার বাড়িতে হাজির হলাম। সোলায়মান এর পিতা আমার শ্রদ্ধেয় গুরুজন মোঃ সাখাওয়াত বিশ্বাস আমার হাতে তার একমাত্র পুত্র মোঃ সোলায়মান হোসেন বিশ্বাস কে আমার হাতে তুলে দিয়ে বললেন একে ভারতে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে ভর্তি করে দাও। আমি আর মামা সোলায়মান রাত অনুমান ২ টার দিকে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। যাওয়ার সময় বাঘারপাড়া সিও অফিসের দোতলায় অনেক লোকের কথার আওয়াজ ভেসে এলো। সন্দেহ হলো রাজাকার এসে গেছে।

আমরা কড়াইতলা এসে সোলায়মান এর বড় বোনের বাসায় অবস্থান নিয়ে ভোরে ভারতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। এদিকে পরের দিন রাজাকার ক্যাম্প থেকে রাজাকার আমার বাড়ীতে গিয়ে আমার কথা শোনে এবং আমার বাড়ীর ঘরে আগুন দিয়ে আমার দিদি দাদা বাবুকে বাচ্চা সহকারে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। আমার বাড়ীতে আশ্রিত বড় সেজ বোন পরিবার নিয়ে শরণার্থী হতে ভারতে গমন করে। আমার বন্ধু আঃ মান্নান ঘরে গ্রেনেড রাখার অপরাধে বাড়ি ছাড়তে হয় এবং এলাকার গণমানুষের সাথে ভারত গমন করে এবং বনগাঁর চাপাবাড়িয়া ইয়থ ক্যাম্পে যোগদান করে মুক্তিযোদ্ধা হয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। অন্যদিকে সোলায়মান মামাকে সাথে নিয়ে বনগাঁ পৌঁছে দিয়েছিলাম।

আমি মুক্তিযোদ্ধা অপারেশন ক্যাম্পে পৌঁছে দেখি আমাদের অপারেশন ক্যাম্প দত্তফুলিয়া থেকে নদীর এ পারে দত্তপুলিয়াতে স্থানান্তর করা হয়েছে। আমি ক্যাম্পে রিপোর্ট করতে গিয়ে শুনলাম আমার বৃদ্ধ মা আমার খোঁজে আমার ক্যাম্পে এসেছিল। তখন আমি বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখি আমার মা একটা ময়লা কাপড় পরিধান করে আমার খোঁজে রাস্তার পাশে বসে আছে। আমি মাকে জড়ায়ে ধরলাম। আমার মা আমাকে ধরে কি কান্না করল তা ভুলার নয়। আমি ক্যাম্প ইনচার্জ ভারতীয় মেজর কে মা আসার কাহিনী বললাম। ক্যাম্প ইনচার্জ আমার মাকে ক্যাম্পের লাগা একটা বাড়িতে রাখতে বলেন। তিনি আমার বৃদ্ধ মা’কে ক্যাম্পের রান্না করা খাবার সরবরাহ করতে সকলকে নির্দেশ দিলেন। আমার মা তখন থেকেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অপারেশন ক্যাম্পে রয়ে গেলেন। শুরু হলো মাকে অপারেশন ক্যাম্পের পাশে রেখে প্রতিনিয়ত পাক হানাদার বাহিনীর কবলিত বাংলাদেশেকে মুক্ত করতে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা। একদিন নয় দুদিন নয় পাক্কা ৬/৭ টা মাস আমার বৃদ্ধ মা আমার অপারেশন ক্যাম্পের লাগোয়া এক ঘরের বারান্দায় অবস্থান করেছেন। আমার মা ক্যাম্পে অবস্থান রত ২০০ শত মুক্তিযোদ্ধার মা হয়ে গেলেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর অফিসার জোয়ানদের কাছে আমার মা অতি প্রিয় হয়ে ওঠেন।

( ___চলমান থাকবে___)

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আজকের নামাজের সময়সুচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৫৭ পূর্বাহ্ণ
  • ১২:০৮ অপরাহ্ণ
  • ১৬:৪৩ অপরাহ্ণ
  • ১৮:৫৩ অপরাহ্ণ
  • ২০:১৭ অপরাহ্ণ
  • ৫:১৯ পূর্বাহ্ণ
©2020 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102